নভে. 212013
 

আবূ নু’মান (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফিরিশ্‌তা নিযুক্ত করে রেখেছেন। (সন্তান জন্মের সূচনায়) সে ফিরিশ্‌তা বলেন, হে রব! এ তো বীর্য। হে রব! এ তো আলাকা। হে রব! এ তো গোশ্‌তের টুকরো। এরপর আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান। তাহলে ফিরিশ্‌তা বলেন, হে রব! সন্তানটি ছেলে হবে, না মেয়ে হবে? হে রব! সে কি পাপীষ্ঠ হবে, না পুণ্যবান হবে? তার রিয্‌ক কি পরিমাণ হবে, তার আয়ু কত হবে? এভাবে তার মাতৃগর্ভে সব কিছুই লিখে দেয়া হয়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩০৯৮

নভে. 212013
 

উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, সত্যবাদী-সত্যনিষ্ট হিসাবে স্বীকৃত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান স্বীয় মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা রাখা হয়। এরপর অনুরূপভাবে (চল্লিশ দিনে) তা আলাকারুপে পরিণত হয়। তারপর অনুরূপভাবে (চল্লিশ দিনে) তা গোশ্‌তের টুকরার রূপ লাভ করে। এরপর আল্লাহ তার কাছে চারটি বিষয়ের নির্দেশ নিয়ে একজন ফিরিশ্‌তা পাঠান। সে তার আমল, মৃত্যু, রিয্‌ক এবং সে কি পাপি হবে না পুণ্যবান হবে, এসব লিখে দেন। তারপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়। (ভুমিষ্টের পর) এক ব্যাক্তি একজন জাহান্নামীর আমলের ন্যায় আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জাহান্নামীদের মধ্যে এক হাতের ব্যবধান থেকে যায়, এমন সময় তার ভাগ্যের লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জান্নাতবাসীদের আমলের ন্যায় আমল করে থাকে। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যাক্তি (প্রথম হতেই) জান্নাতবাসীদের আমলের অনুরুপ আমল করতে থাকে। এমন কি শেষ পর্যন্ত তার অ জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থেকে যায়। এমন সময় তার ভাগ্যের লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জাহান্নামীদের আমলের অনুরূপ আমল করে থাকে এবং পরিণতিতে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩০৯৭

নভে. 162013
 

সুলাইমান ইবনু হারব(রহঃ) মুসআব ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন সা’দ (রাঃ) এর ধারনা ছিল অন্যদের চাইতে তাঁর মর্যাদা বেশী। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা দুর্বলদের উসিলায়ই সাহায্য ও রিযক প্রাপ্ত হচ্ছো। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৬৯৬

অক্টো. 162013
 

মুসা দ্দাত (রহঃ) ’আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা মাতৃগর্ভের জন্য একজন ফিরিশতা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন, হে রব! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে রব! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে রব! এখন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা’আলা যখন সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞাসা করেনঃ পুরুষ, না স্ত্রী? সৌভাগ্যবান, না দুর্ভাগা রিযক ও বয়স কত? রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ তার মাতৃগর্ভে থাকতেই তা লিখে দেওয়া হয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হায়য হাদিস নাম্বারঃ ৩১২

অক্টো. 072013
 

সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা রেহেম (মাতৃগর্ভে) একজন ফেরেশতা নিয়োজিত করেছেন। তিনি বলেনঃ হে প্রভূ! এটি বীর্য। হে প্রতূ! এটি রক্তপিণ্ড। হে প্রভূ! এটি মাংসপিণ্ড। আল্লাহ তা-আলা যখন তার সৃষ্টি পরিপূর্ণ করতে চান, তখন ফেরেশতা বলে, হে প্রভূ। এটি নর হবে, না নারী? এটি হতভাগ্য হবে, না ভাগ্যবান? তার জীবিকা কি পরিমাণ হবে? তার আয়ুষ্কাল কি হবে? তখন (আল্লাহ তাঁআলা যা নির্দেশ দেন) তার মাতৃগর্তে থাকা অবস্হায় ঐরুপই লিপিবদ্ধ করা হয।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাকদির হাদিস নাম্বারঃ ৬১৪৩

অক্টো. 072013
 

আবূল ওয়ালীদ হিশাম ইবন আবদূল মালিক (রহঃ) আবদূলাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বিশ্বাসী ও বিশ্বস্ত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগর্ভে চল্লিশদিন পর্যন্ত শুক্র বিন্দুরুপে জমা থাক। তারপর ঐরুপ চল্লিশ দিন রক্তপিণ্ড এবং এরপর ঐরুপ চল্লিশ দিন মাংস পিন্ডাকারে থাকে। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরন করেন এবং তাকে রিযিক, মউত, দূর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য-এ চারটি ব্যাপার লিপিবদ্ধ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। তিনি আরও বলেন! আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে যে কেউ অথবা বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তি জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে। এমন কি তার মাঝে এবং জাহান্নামের মাঝে তখন কেবলমাত্র একহাত বা এক গজের ব্যবধান থাকে। এমন সময় তাকদীর তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আর তখন সে জান্নাতীদের আমল করা শুরুকরে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যাক্তি বেহেশতীদের আমল করতে থাকে। এমন কি তার মাঝে ও জান্নাতের মাঝে কেবলমাত্র এক গজ বা দু-গজের ব্যবধান থাকে। এমন সময় তাকদীর তার উপর প্রাধান্য বিস্তার করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের আমল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবূ আব্দুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন যে, আদম তার বর্ননায় শুধুমাত্র (এক গজ) বলেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাকদির হাদিস নাম্বারঃ ৬১৪২