নভে. 122013
 

মু’আয ইবন আসাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ ঘোষণা করলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন বস্তু প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোন কান কখনো শোনেনি, এমনকি কোন মানুষের অন্তরে কল্পনায়ও আসেনি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৮৯

নভে. 102013
 

ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ঘোড়া ব্যবহারের দিক দিয়ে মানুষ তিন প্রকার। এক প্রকার লোকের জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম আর এক প্রকার লোকের জন্য তা গুনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার অবলম্বন এবং আর এক প্রকার লোকের ব্জন্য তা শাস্তির কারণ। যার জন্য ঘোড়া সাওয়ারের মাধ্যম সে এমন ব্যাক্তি যে ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখে এবং চারণভূমি বা বাগানে প্রশস্ত রশিতে বেধে বিচরণ করতে দেয়। এই রশি যত প্রশস্ত এবং যত দুরত্বে ঘোড়া বিচরণ করতে পারে, সে তত বেশি প্রতিদান পায়। যদি ঘোড়া এ রশি ছিড়ে এক চরাচর অথবা দুটি চক্কর দেয়। তবে ঐ ঘোড়ার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং মালের বিনিময়ে তাকে প্রতিদান দেওয়া হয়। ঘোড়া যদি কোন নদী বা নালায় গিয়ে পানি পান করে ফেলে অথচ মালিক পানি পান করানোর নিয়ত করেনি। এগুলো খুবই নেক কাজ। এর জন্য এ ব্যাক্তির সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যাক্তি ঘোড়া পালন করে একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্নতা এবং সূনির্ভরতা বজায় বাখার জন্য; এর সাথে সাথে ঘোড়ার ঘাড় ও পিঠে বর্তানো আল্লাহর হক সমূহও আদায় করতেও সে ভুলে যায় না। এ ক্ষেত্রে ঘোড়া তার জন্য শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হবে। আর যে ব্যাক্তি অহংকার ও আত্মগৌরব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ঘোড়া পোষে, তার জন্য এই ঘোড়া শাস্তির কারন হবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে জিজ্ঞাসা করা হল গাধা সম্পর্কে তখন তিনি বললেনঃ এ সম্পর্কে আমার প্রতি ব্যাপক অর্থ বোধক একটি আয়াত ছাড়া আল্লাহ আর কিছু নাযিল করেননি। (তা হল এই) যে অণু পরিমাণ ভাল কাজও করবে, সে তাও দেখতে পাবে এবং যে অনু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে সেও তা দেখতে পাবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৫৪

নভে. 082013
 

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) স্বাদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) সময় আমি রোগে আক্রান্ত হয়ে মরণাপন্ন হয়ে পড়েছিলাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে সময় আমাকে দেখতে এলেন। তখন আমি বললাম আমি যে রোগ-ষন্ত্রনায় আক্রান্ত তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন ধনবান লোক। আমার একাটি মেয়ে ছাড়া আর কেউ ওয়ারিস নেই। তাই আমি কি আমার দু তৃতীয়াংশ মাল সাদাকা করে দিতে পারি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেনঃ না। এক তৃতীমাংশ অনেক। তোমার ওয়ারিসদের লোকের কাছে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করার মত অভাবী রেখে যাওয়ার চাইতে তাদের ধনবান রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম। আর তুমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিটি লাভের জন্য যা কিছুই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেওয়া হবে। এমন কি (সে উদ্দেশ্যে) তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে লুকমাটি তুলে দিয়ে থাকো তোমাকে এর প্রতিদান দেওয়া হবে। আমি বললাম তা হলে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেচে থাকবো? তিনি বললেন নিশ্চয়ই তুমি তাদের পরে বেচে থাকলে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যা কিছু নেক আমল করনা কেন, এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে। আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। এমন কি তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকৃত হবে। আর অনেক কাওম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তারপর তিনি দুআ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার (মুহাজির) সাহাবীগণের হিজরতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দিবেন না। স্বাদ ইবন খাওলাহ (রাঃ)-এর দূর্ভাগ্য (কারণ তিনি ইচ্ছা না থাকা সত্তেও বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) সময় মক্কায় মারা যান) সা’দ (রাঃ) বলেন মক্কাতে ওফাতের কারণে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৯৩৩

নভে. 082013
 

আবূ মা-মার (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (হাদীসে কুদসী স্বরুপ) তার রব থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, আল্লাহ তা’আলা নেকী ও বদীসমূহ চিহ্নিত করেছেন। এরপর সেগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন সূতরাং যে ব্যাক্তি কোন সং কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করল না, আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে এর জন্য পূর্ন নেকী লিপিবদ্ধ করবেন। আর সে ইচ্ছা করল ভাল কাজের এবং তা বাস্তবেও পরিণত করল তবে আল্লাহ তাঁআলা তার কাছে তার জন্য দশ গুন থেকে সাতশ- গুণ পর্যন্ত এমন কি এর চেয়েও অনেক গুণ বেশি সাওয়াব লিখে দেন। আর যে ব্যাক্তি কোন অসৎ কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করল না, আল্লাহ তাআলা তার কাছে তার জন্য পূর্ন নেকী লিপিবদ্ধ করবেন। আর যদি সে ওই অসৎ কাজের ইচ্ছা করার পর বাস্তবেও তা করে ফেলে, তবে তার জন্য আল্লাহ তাঁআলা মাত্র একটা পাপ লিখে দেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০৪৭

অক্টো. 282013
 

আবদুল্লাহ্ ইবন ইউসুফ (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, একজন লোক রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে তার ভীষন পিপাসা লাগলো। সে কূপে নেমে পানি পান করল। এরপর সে বের হয়ে দেখতে পেল যে, একটা কুকুর হাপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চাটছে। সে ভাবল, কুকুরটারও আমার মত পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা ভরে পানি নিয়ে মুখ দিয়ে সেটি ধরে উপরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ্ পাক তার আমল কবূল করলেন এবং আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দেন। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূল (সাঃ) চতুস্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই সাওয়াব রয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানি সিঞ্চন হাদিস নাম্বারঃ ২২০৭

অক্টো. 162013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু লোকের অতিরিক্ত ভূসম্পত্তি ছিল। তারা পরষ্পর পরামর্শ করে ঠিক করলো যে এগুলো আমরা তিন ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ বা অর্ধেক হিসাবে ইজারা দিবে। একথা শুনে রাসূল (সাঃ) বললেন, কারো অতিরিক্ত জমি থাকলে হয় সে নিজেই চাষ করবে, কিংবা তার ভাইকে তা (চাষ করতে) দিবে। আর তা না করতে চাইলে তা নিজের কাছেই রেখে দিবে। মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী (সাঃ) এর কাছে এসে হিজরত সম্পর্কে জানতে চাইল। তিনি তাকে বললেন, থাম! হিজরতের ব্যাপার সুকঠিন। (তার চেয়ে বরং বল) তোমার কি উট আছে? সে বল্ল, হ্যা আছে। তিনি বললেন, তুমি কি এর সাদকা (যাকাত) আদায় করে থাক? সে বললাম, হ্যা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি দুধ পানের জন্য এগুলো মানীহা হিসাবে দিয়ে থাকো সে বল্ল, হ্যা। আবার তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা! পানি পান করানের (ঘাটে সমবেত অভাবী লোকদের মাঝে বিতরনের জন্য) উটগুলো দোহন করো কি? সে বল্ল হ্যা। তখন তিনি ইরশাদ করলেন, এ যদি হয় তাহলে সাগরের ওপারে হলেও অর্থাৎ তুমি যেখানে থাক আমল করতে থাক। আল্লাহ তোমার আমলের প্রতিদানে কম করবেন না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হিবা (উপহার) প্রদান হাদিস নাম্বারঃ ২৪৫৭

অক্টো. 072013
 

মালিক ইবন ইসমাঈল (রহঃ) উসামা ইবন যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নাবী (সাঃ) -এর নিকটে ছিলাম। তার সঙ্গে সাদ ইবন উবাদা উবাই ইবন কাব ও মু’আয ইবন জাবালও ছিলেন। এমন সময় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর কোন এক কন্যা কর্তৃক প্রেরিত একজন লোক এই খবর নিয়ে এলো যে, তার পুত্র সন্তান মরণাপন্ন। তখন তিনি এই বলে লোকটিকে পাঠিয়ে দিলেন যে, আল্লাহর জন্যই যা তিনি গ্রহণ করেন, আল্লাহর জন্যই যা তিনি দান করেন। প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত একটি সময় রয়েছে। সুতরাং সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং এটাকে যেন সে (সন্তান হারানকে) পূণ্য মনে করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাকদির হাদিস নাম্বারঃ ৬১৪৯

অক্টো. 062013
 

সাঈদ ইবন আবূ মারইয়াম (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনজন লোক হেঁটে চলছিল। তাদের উপর বৃষ্টি শুরুহলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়। এমন সময় পাহাড় থেকে একটি পাথর তাদের গুহার মুখের উপর গড়িয়ে পড়ে এবং মুখ বন্ধ করে ফেলে। তাদের একজন অপরজনকে বললঃ তোমরা তোমাদের কৃত আমলের প্রতি লক্ষ্য করো, যে নেক আমল তোমরা আল্লাহর জন্য করেছ; তার ওসিলায় আল্লাহর নিকট দু’আ করো। হয়তো তিনি এটি সরিয়ে দিবেন। তখন তাদের একজন বলল ইয়া আল্লাহ! আমার বায়োবৃদ্ধ মাতাপিতা ছিল এবং ছেটি ছোট শিশু ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মাঠে পশু চরাতাম। যখন সন্ধায় ফিরতাম, তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার সন্তানদের আগেই পিতামাতাকে পান করতে দিতাম। একদিন সেগুলো দূরে বনের মধ্যে চলে যায়। ফলে আমার ফিরতে রাত হয়। ফিরে দেখলাম তারা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি যেমন দুধ দোহন করতাম, তেমনি দোহন করলাম। তারপর দুধ নিয়ে এলাম এবং উভয়ের মাথার কাছে দাড়িয়ে রইলাম। ঘূম থেকে তাদের উভয়কে জাগানো ভাল মনে করলাম না। আর তাদের আগে শিশুদের পান করানোও অপছন্দ করলাম। আর শিশুরুা আমার দু”পায়ের কাছে কান্নাকাটি করছিল। তাদের ও আমার মাঝে এ অবস্থা চলতে থাকে। অবশেষে ভোর হয়ে গেল। (ইয়া আল্লাহ) আপনি জানেন যে, আমি কেন আপনার সন্তানটির জন্যই একাজ করেছি। তাই আপনি আমাদের জন্য একটু ফাক করে দিন, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই।

তখন আল্লাহ তাদের জন্য একটু ফাক কসে দিলেন, যাতে তারা আকাশ দেখতে পায়। তিনি ব্যাক্তি বললঃ ইয়া আল্লাহ আমার একটি চাচাৎ বোন ছিল। আমি তাফে এতখানি ভালবাসতাম, যতখানি একজন পূরুষ কোন নারীকে ভালবাসতে পারে। আমি তাতে একাত্তভাবে পেতে চাইলাম। সে অসম্মতি জানাল, যতক্ষণ আমি তার কাছে একশ- দীনার উপস্থিত না করি। আমি চেষ্টা করলাম এবং একশ- স্বর্ণমুদ্রা জোগাড় করলাম। এগুলো নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম। যখন আমি তার দু-পায়ের মখ্যে বসলাম, তখন সে বলল হে -আব্দুল্লাহ! আল্লাহকে ভয় করো; আমার কুমারিত্ত নষ্ট করো না। তখন আমি উঠে গেলাম। ইয়া আল্লাহ! আপনি জানেন যে, কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যই আমি তা করেছি। তাই আমাদের জন্য এটি ফাক করে দিন। তখন তাদের জন্য আল্লাহ আরও কিছু ফাক করে দিলেন।

শেষের লোকটি বললঃ ইয়া আল্লাহ! আমি একজন মজদুরকে এক “ফারক”- চাউলের বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করেছিলাম। সে তার কাজ শেষ করে এসে বলল, আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি তার প্রাপ্য তার সামনে উপস্থিত করলাম কিন্তু সে তা ছেড়ে দিল ও প্রত্যাখ্যান করলো। তারপর তার প্রাপ্য আমি জমাগত কৃষিকাজে খাটাতে লাগলাম। তার দ্বারা অনেকগুলো গরু ও গাধা জমা করলাম। এরপর সে একদিন আমার কাছে এসে বললঃ আল্লাহকে ভয় কর, আমার উপর যুলম করো না এবং আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও। আমি বললামঃ গরু ও রাখালের কাছে চলে যাও। সে বললঃ আল্লাহকে ভয় করো, আমরে সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম তোমার সঙ্গে আমি উপহাস করছি না। তুমি ঐ গরুগুলো ও তার গাধা নিয়ে যাও। তারপর সে ওগুলো নিয়ে চলে গেল। (ইয়া আল্লাহ) আপনি জানেন যে, তা আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্যই করেছি, তাই আপনি অবশিষ্ট অংশ উন্মুক্ত করে দিন। তারপর আল্লাহ তাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৪৯

অক্টো. 042013
 

ইয়াকূব ইব্‌ন ইবরাহীম (র) —- মালিক ইব্‌ন সা’সা’আ (রা) থেকে বর্ণিত। নাবী (সঃ) বলেছেনঃ আমি কা”বার নিকট তন্দ্রাচ্ছন্নাবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম, তিনজনের একটি দলের মধ্যবর্তী ব্যাক্তিটি এগিয়ে আসল। আমার নিকট হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হল। তারপর ঐ ব্যাক্তি আমার সিনার অগ্রভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত বিদীর্ণ করলো। তারপর যমযমের পানি দ্বারা ‘কল্‌ব’ ধৌত করলো। তারপর হিকমত ও ঈমান দ্বারা তা ভরে দেয়া হল। পরে আমার নিকট আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় এরূপ একটি জন্তু আনা হল। আমি জিব্রাঈল (আ)-এর সাথে চলতে থাকি। পরে আমরা দুনিয়ার (নিকতবর্তী) আকাশ পর্যন্ত পৌঁছি। তখন বলা হল, কে? জিব্রাঈল (আ) বললেন, (আমি) জিব্রাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? জিব্রাইল (আ) বললেন, মুহাম্মদ (সঃ)। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য কি দূত প্রেরণ করা হয়েছে? তাঁকে স্বাগতম, তাঁর আগমন কতই না শুভ। এরপর আমি আদম (আ)-এর নিকট আসলাম, তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) পুত্র ও নাবী। তারপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে আসলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, কে? জিব্রাঈল (আ) বললেন, (আমি) জিব্রাঈল। বলা হল, আপনার সঙ্গে কে? জিব্রাইল (আ) বললেন, মুহাম্মদ (সঃ)। পুর্ববৎ তাঁকে স্বাগতম জানানো হল। এরপর আমি ইয়াহ্‌ইয়া ও ঈসা (আ)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁদের উভয়কে সালাম বললাম। তাঁরা বললেন স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী। তারপর আমরা তৃতীয় আসমানে আসলাম। এখানেও জিজ্ঞাসা করা হল, কে? তিনি বললেন, আমি জিব্রাঈল। বলা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ (সঃ)। পুর্ববৎ তাঁকে স্বাগতম জানানো হল। এখানে আমি ইউসুফ (আ)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম বললাম। তিনিও বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে আসলাম। এখানেও পুর্ববৎ প্রশ্নোত্তর হল ও সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হল। পরে আমি হারুন (আ)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী। এরপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে আসলাম। এখানেও প্রশ্ন উত্তর সম্বর্ধনার পর আমি মূসা (আ)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নাবী। আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে যাই, তখন তিনি কাঁদতে থাকেন। জিজ্ঞাসা করা হল আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, হে আমার রব! এ যুবক, যাকে আপনি আমার পর নাবীরূপে প্রেরণ করেছেন, আমার উম্মত হতে যত সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাঁর উম্মত থেকে তার চেয়ে অধিক সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাঁরা মর্যাদায় হবেন শ্রেষ্ঠতর। তারপর আমরা সপ্তম আসমানে আসলাম। এখানেও পূর্বের ন্যায় প্রশ্ন-উত্তর ও সম্বর্ধনার পর আমি ইবরাহীম (আ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করলাম। তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, খোশ আমদেদ স্বাগতম (হে) পুত্র ও নাবী। তারপর আমার সামনে বায়তুল মা’মূর তুলে ধরা হল। আমি জিব্রাঈল (আ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কোন্‌ স্থান? তিনি বললেন, এ বায়তুল মা’মূর। এখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশ্‌তা সালাত আদায় করেন। একদিনে যারা এখানে সালাত আদায় করেন, তারা এখানে কোনদিন প্রত্যাবর্তন করবেন না। এটাই তাদের শেষ (প্রবেশ)। তারপর আমার সামনে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ তুলে ধরা হল। তার(সিদরাতুল মুনতাহার) গাছের ফল আকারে হাজর (নামক স্থান-এর) কলসীর ন্যায় এবং পাতাগুলো হাতির কানের মত এবং দেখলাম যে, তার মূল হতে চারটি নহর প্রবাহমান। দু’টি অপ্রকাশ্য ও দু’টি প্রকাশ্য। আমি জিব্রাঈল (আ)-কে এগুলো সম্পর্কে জজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নহর দু’টি জান্নাতে প্রবাহমান। আর প্রকাশ্য নহর দু’টির একটি ফুরাত ও অন্যটি নীল। তারপর আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হল। ফেরার পথে আমি মূসা (আ)-এর নিকট এলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি করে আসলেন? বললাম, আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, আমি মানুষের (প্রকৃতি) সম্পর্কে আপনার চেয়ে অধিক অবগত। আমি বনী ইসরাঈলকে নিয়ে কঠিনভাবে চেষ্টা করেছি। একথা নিশ্চিত যে, এগুলো আদায় করতে আপনার উম্মত সক্ষম হবে না। আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং এ নির্দেশ সহজ করে নিয়ে আসুন। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় গেলাম এবং এ বিধান সহজ করার আবেদন জানালাম। এতে তিনি চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আমি আবার মূসা (আ)-এর নিকট এলাম। তিনি বললেন, আপনি কি করে আসলেন? আমি বললাম, চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন। তিনি এবারও আমাকে পূর্বের ন্যায় বললেন। আমি আমার মহান প্রতিপালকের নিকট ফিরে গেলাম। তিনি এবার ত্রিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আমি আবার মূসা (আ)-এর নিকট এলাম এবং তাকে অবহিত করলাম। তিনি আমাকে পূর্বের মত বললেন। আমি আবার প্রতিপালকের নিকট হাযির হলাম। তিনি বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপর দশ ওয়াক্ত এবং তারপর পাঁচ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপরে আমি মূসা (আ)-এর নিকট এলাম। তিনি পূর্বের মত একই কথা বললেন। আমি বললাম, আমি আবার আল্লাহ্‌র নিকট যেতে লজ্জাবোধ করছি। তারপর আল্লাহ্‌র তরফ থেকে ঘোষণা দেয়া হল, আমি আমার বিধান চূড়ান্ত করলাম এবং আমার বান্দাদের জন্য সহজ করে দিলাম। আর আমি একটি নেককাজের বিনিময়ে দশটি প্রতিদান দিব।

সুনানে নাসাঈ অধ্যায়ঃ সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৪৪৯

অক্টো. 032013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) ‘আয়িনুল্লাহ্ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) এর পার্শ্বে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেনঃ তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়’আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্‌র সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লাহ্‌র কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্‌ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ্ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ঈমান হাদিস নাম্বারঃ ১৭