নভে. 122013
 

আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল (রহঃ) আলী ইবন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিত। একদা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ও রাসুল-তনয়া ফাতিমার কাছে রাতে এসেছেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা সালাত (নামায) আদায় করছ না? আলী বলেনঃ তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাদের জীবন অবশ্যই আল্লাহর হাতে। তিনি যখন আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ওঠাতে চান জাগিয়ে ওঠান। আমি এ কথা বলার পর, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে চললেন। আর আমার কথার কোন উত্তর করলেন না। যাওয়ার সময় তাঁকে উরুর ওপর হাত মেরে বলতে শুনেছি, মানুয অধিকাংশ বিষয়েই বড্ড ঝগড়াটে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৫৭

নভে. 102013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচাইতে ঘৃণ্য ব্যাক্তি হল সে, যে সর্বক্ষণ ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৯৮

নভে. 052013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) লোকদের -লায়লাতুল কদর” সম্বন্ধে জানানোর জন্য বেরিয়ে আসলেন। তখন দু-জন মুসলমান ঝগড়া করছিলেন। নাবী (সাঃ) বললেনঃ আমি ‘লায়লাতুল কদর’ সম্পর্কে তোমাদের খবর দিতে বেরিয়ে এসেছিলাম। এ সময় অমুক অমুক পরস্পর ঝগড়া করছিল। এজন্য ঐ খবরের ‘ইল্‌ম’ আমার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এটা হয়ত তোমাদের জন্য কল্যাণকরই হবে। অতএব তোমরা তা রমযানের শেষ দশকের নবম! সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তালাশ করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬২৩

নভে. 052013
 

সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন সে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ মুসলমানের গালি দেয়া ফাসিকী (কবীরা গুনাহ) এবং এক অন্যের সাথে মারামারি করা কুফরী। শুবা (রহঃ) সূত্রে গুনদারও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬১৮

অক্টো. 252013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ)সুত্রে নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলমান ব্যাক্তির মাল আত্মসাৎ করার জন্য অথবা বলেছেনঃ তার ভাইয়ের মাল আত্নসাৎ করার জন্য যে ব্যাক্তি মিথ্যা কসম করবে, আল্লাহ তায়াআলার সাথে তার মুলাকাত হবে এমতাবস্থায় যে আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন। এ কথারই সত্যয়নে আল্লাহ তাঁআলা নাযিল করেনঃ যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে (পরকালে তাদের কোন অংশ নেই)। বারী সুলায়মান তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেনঃ আশআছ ইবন কায়স (রাঃ) যখন পার্শ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জিজ্ঞাসা করেন, আব্দুল্লাহ তোমাদের কাছে কি বর্ণনা করেছেন? উত্তরে লোকেরা তাকে কিছু বলল। তখন আশআছ (রাঃ) বললেনঃ এ আয়াত তো আমার আর আমার এক সঙ্গীর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে? আমাদের দু, জনের মাঝে একটি কুপের ব্যাপারে ঝগড়া ছিল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬২০৪

অক্টো. 252013
 

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) হারিসা ইবন ওয়াহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি নাবী (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি। আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের সম্পর্কে অবহিত করব না? তারা হবে দুনিয়াতে দূর্বল, মাজলুম। তারা যদি কোন কথায় আল্লাহর ওপর কসম করে ফেলে তবে আল্লাহ তা-আলা তা পূর্ণ করে দেন। আর যারা জাহান্নামে যাবে তারা হবে অবাধ্য, ঝগড়াটে ও অহংকারী।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬২০২

অক্টো. 212013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) জনৈক রাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন এক কারণে আবূ আব্দুর রহমান ও হিব্বান ইবন আতিয়্যার মাঝে ঝগড়া বাঁধে। আবূ আব্দুর রহমান হিব্বান কে বললেনঃ আমি অবশ্যই জানি যে, কোন বিষয়টি আপনার সাথীকে রক্তপাতে দুঃসাহসী করে তুলেছে। সাথী, অর্থাৎ আলী (রাঃ) সে বলল, সে কি! তোমার পিতা জীবিত না থাকুক। আবূ আবদুর রহমান বলল, তা আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। হিববান বলল, সে কি? আবূ আবদুর রহমান বলল, যুবায়র, আবূ মারছাদ এবং আমাকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) – পাঠালেন। আমরা সকলেই অশ্বারোহী ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা রওয়ায়ে হাজ পর্যন্ত যাবে। আবূ সালামা (রহঃ) বলেনঃ আবূ আওয়ানা (রহঃ) অনুরুপই বলেছেন। তথায় একজন মহিলা রয়েছে, যার কাছে হাতিব ইবন আবূ বালতাআ (রাঃ)-এর তরফ থেকে (মক্কার) মুশরিকদের কাছে প্রেরিত একখানা চিঠি আছে। তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। আমরা আমাদের ঘোড়ায় চড়ে রওনা দিলাম। অবশেষে আমরা তাকে ঐ স্থানেই পেলাম, যে স্থানের কথা আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছিলেন। সে তার উটে চলছে। আবূ বালতাআ (রাঃ) মক্কাবাসীদের কাছে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের দিকে রওনা হওয়া সম্পর্কিত সংবাদ জানিয়ে পত্র লিখেছেন। আমরা বললাম- তোমার সাথে যে পত্র রয়েছে তা কোথায়? সে বলল, আমার সাথে কোন পত্র নেই। আমরা তার উটকে বসালাম এবং তার হাওদায় খোঁজাখুজি করলাম। কিন্তু কিছুই পেলাম না। তখন আমার সঙ্গী দু-জন বলল, তার সাথে তো আমরা কোন পত্র দেখছি না। আমি বললাম, আমরা অবশ্যই জানি যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মিথ্যা বলেননি। তারপর আলী (রাঃ) এই বলে কসম করে বললেনঃ ঐ সত্তার কসম! যার নামে কসম করা হয়! অবশ্যই তোমাকে চিঠি বের করে দিতে হবে। নতুবা তোমাকে উলঙ্গ করে ছাড়ব। তখন সে তার চাদর বাঁধা কোমরের প্রতিনিবিষ্ট হল এবং (সেখান থেকে) পত্রটি বের করে দিল। তারা পত্রটি নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! সে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে হাতিব! এ কাজে তোমাকে কিসে প্রবৃত্ত করেছে? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমি কেন আল্লাহ ও তার রাসূল (সাঃ) -এর প্রতি ঈমান রাখব না। আসল কথা হচ্ছে, আমি চাচ্ছিলাম যে, কাওমের (মক্কাবাসী) প্রতি আমার কিছুটা অনুগ্রহ সূচক কাজ হোক যার বদৌলতে আমার পরিবারবর্গ ও মাল সম্পদ রক্ষা পায়। আপনার সাথীদের প্রত্যেকেরই সেখানে স্বগোত্রীয় এমন লোক রয়েছে, যাদের মাধ্যমে আল্লাহ তার পরিবারবর্গ ও মাল সম্পদ রক্ষার ব্যবস্হা করবেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ সে ঠিকই বলেছে। সূতরাং তোমরা তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া মন্দ কোন মন্তব্য করো না। বর্ণনাকারী বলেনঃ উমর (রাঃ) পূনরায় বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! সে আল্লাহ, তার রাসুল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে। আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ সে কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নয়? তুমি কি করে জানবে? আল্লাহ তাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ তোমরা যা ইচ্ছা তা কর। তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত করে ফেলেছি। এ কথা শুনে উমর (রাঃ)-এর চক্ষুযুগল অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল এবং তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সর্বাধিক জ্ঞাত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৭০

অক্টো. 212013
 

আলী (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষন না এমন দুটি দল পরস্পর লড়াই করবে, যাদের দাবি হবে অভিন্ন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৬৬

অক্টো. 172013
 

কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (ইবন মাস’উদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিথ্যা কসম করে যে ব্যাক্তি অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তারপর আল্লাহ তা’আলা ( নাবী (সাঃ) -এর ) উক্ত বাণী সমর্থন করে আয়াত নাযিল করলেন: “নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে। (৩:৭৭) (রাবী বলেন) পরে আশ’আস ইবন কাযস (রাঃ) আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবূ আবদুর রহমান (ইবন মাসউ’দ) তোমাদের কি হাদীস শোনালেন (রাবী বলেন), আমরা তাকে হাদীসটি শোনালে তিন বললেন, তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো। কুয়া ( এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক লোকের ঝগড়া চলছিলো। পরে আমরা রাসূল (সাঃ) বললেন, যে ব্যাক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তিন (আশআস) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা এর সমর্থনে আয়াত নাযিল করলেন। অত:পর তিনি (আশআস) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বন্ধক হাদিস নাম্বারঃ ২৩৫০

অক্টো. 172013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌ন বুকাইর (রহঃ) কা’ব ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবূ হাদরাদ আসলামী (রাঃ) এর কাছে তাঁর কিছু পাওনা ছিল। তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন এবং পিছনে লেগে থাকলেন। তাঁরা উভয় কথা বলতে লাগলেন, এমনকি এক পর্যায়ে তাঁদের উভয়ের আওয়াজ উঁচু হল। রাসূল (সাঃ) সেখানে গেলেন এবং বললেন, হে কা’ব, উভয় হাত দিয়ে তিনি ইশারা করলেন; যেন অর্ধেক (গ্রহণ করার কথা) বুঝিয়েছিলেন। তাই তিনি (কা’ব) তার ঋণের অর্ধেক গ্রহণ করলেন এবং অর্ধেক ছেড়ে দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কলহ- বিবাদ হাদিস নাম্বারঃ ২২৬৩