নভে. 222013
 

সাঈদ ইবনু তালীদ রু‘আইনী ও মুহাম্মদ ইবনু মাহবুব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার ব্যতিত কখনও কথাকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেন নি। তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহ প্রসঙ্গে। তার উক্তি ‘‘আমি অসুস্থ’’ (৩৭:৮৯) এবং তাঁর আবার এক উক্তি ‘‘বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি। (২১:৬৩) বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি (ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং (তাঁর পত্নি) সারা অত্যাচারী শাসকগণের কোন এক শাসকের এলাকায় এসে পৌঁছলেন। (তা-ছিল মিসর) তখন তাকে (শাসককে) সংবাদ দেওয়া হল যে, এ এলাকায় একজন লোক এসেছে। তার সাথে একজন সর্বাপেক্ষা সুন্দরী মহিলা রয়েছে। তখন সে (রাজা) তাঁর (ইব্‌রাহীম) কাছে লোক পাঠাল। সে তাঁকে মহিলাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, এ মহিলাটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, মহিলাটা আমার বোন। তারপর তিনি সবার কাছে আসলেন এবং বললেন, হে সারা, তুমি আর আমি ছাড়া পৃথিবীর উপর আর কোন মু’মিন নেই। এ লোকটি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তখন আমি তাকে জানিয়েছে যে, তুমি আমার বোন। কাজেই তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন কর না। এরপর (অত্যাচারী রাজা) সারাকে আনার জন্য লোক পাঠালো। তিনি (সারা) যখন তার (রাজার) কাছে প্রবেশ করলেন এবং রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়ালো তখনই সে (আল্লাহর গযবে) পাকড়াও হল। তখন অত্যাচারী রাজা সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। তখন সারা আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার তাকে ধরতে চাইলো। এইবার সে পূর্বের ন্যায় বা তার চেয়ে কঠিনভাবে (আল্লাহর গযবে) পাকড়াও হল। এবারও সে বলল, আল্লাহর কাছে আমার জন্য দু’আ কর। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। আবারও তিনি দু’আ করলেন ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। তারপর রাজা তার কোন এক দারোয়ানকে ডাকল। সে তাকে বলল, তুমি তো আমার কাছে কোন মানুষ আননি। বরং এনেছ এক শয়তান। তারপর রাজা সারার খেদমতের জন্য হাযেরাকে ডান করল। এরপর তিনি (সারা) তাঁর (ইব্‌রাহীম) কাছে আসলেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করছিলেন। যখন তিনি (সালাত (নামায) রত অবস্থায়) হাত দ্বারা ইশারা করে সারাকে বললেন, কি ঘটেছে? তখন সারা বললেন, আল্লাহ কাফির বা ফাসিকের চক্রান্ত তারই বক্ষে ফিরিয়ে দিয়েছেন। (অর্থাৎ তাঁর চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছেন।)আর সে (রাজা) হাযেরাকে খেদমতের জন্য দান করেছেন। ১ আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘‘হ আকাশের পানির২ সন্তানগণ! এ হাযেরাই তোমাদের আদি মাতা। ১। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উক্ত তিনটি উক্তি ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলার অর্থাৎ-প্রথমটি দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মানসিক অসুস্থতা। আর দ্বিতীয়টির উদ্দেশ্য ছিল মুরতি-পুজারীদেরকে বোকা সাজানো এবং স্ত্রীকে বোন বলে পরিচয় দেওয়ার উদ্দেশ্য ধরমিও সম্পর্ক। ২। আকাশের পানির দ্বারা ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বংশের পবিত্রতা বুঝানো হয়েছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১২০

নভে. 152013
 

মূসা দ্দাত (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে দিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবেনা সে দিন আল্লাহ তা‘আলা সাত প্রকার মানুষকে সে ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। ১। ন্যায়পরায়ণ শ্বাসক। ২। যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থেকে যৌবনে উপনীত হয়েছে। ৩। যার অন্তরের সম্পর্ক সর্বদা মসজিদের সাথে থাকে। ৪। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে দু‘ব্যাক্তি পরস্পর মহব্বত রাখে, উভয়ে একত্রিত হয় সেই মহব্বতের উপর আর পৃথক হয় সেই মহব্বতের উপর। ৫। এমন ব্যাক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী (অবৈধ মিলনের জন্য) আহবান জানিয়েছে। তখন সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। ৬। যে ব্যাক্তি গোপনে এমনভাবে সা’দকা করে যে, তার ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জনতে পারেনা। ৭। যে ব্যাক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে অশ্রু বের হয়ে পড়ে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৪০

নভে. 122013
 

ইসমাঈল ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তো সমস্থ সৃষ্টুকে পয়দা করলেন। তার, পর যখন তিনি এর থেকে অবসর হলেন তখন রাহিম” (আত্নীয়তার বন্ধন) উঠে দাঁড়াল। আল্লাহ সেটিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি থাম। আত্নীয়তার-বন্ধন তখন বলল, আমাকে ছিন্নকারী থেকে পানাহ প্রার্থনার স্থল এটিই। এতে আল্লাহ ঘোষনা করলেন, তুমি এতে রাযী নও কি? যে ব্যাক্তি-তোমার সাথে সৎভাব রাখবে আমিও তার সাথে সৎভাব রাখব। আর যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করব। সে বলল, আমি এতে সত্তুষ্ট, হে প্রতিপালক! আল্লাহ বললেনঃ তা-ই তোমার জন্য। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ ক্ষমতায় অধিপতি হলে সম্ভবত তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্নীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৯৩

নভে. 052013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) আমাদের নিকট এলে নাবী (সাঃ) তাঁর ও সা-দ ইবন রাবী-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দেন। তারপর নাবী (সাঃ) তার বিয়ের পর তাকে বললেনঃ তুমি ওয়ালিমা করো অন্তত একটি বকরী দিয়ে হলেও।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৫৩

নভে. 052013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তির জন্য হালাল নয় যে সে তার ভাই-এর সাথে তিন দিনের বেশী এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দু-জনে সাক্ষাৎ হলেও একজন এদিকে আর অপর জন সে দিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের মধ্যে যে সর্ব প্রথম সালামের সূচনা করবে, সেই উত্তম ব্যাক্তি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৪৮

নভে. 052013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ো না, হিংসা করো না এবং একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন থেকো না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ও পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে থেকো। কোন মুসলমানের জন্য জায়েয নয় যে, সে তার ভাই থেকে তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৪৭

নভে. 052013
 

আবূল ইয়ামাশ (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা একে অন্যের প্রতি বিদ্যেষভাব পোষন করো না, পরস্পর হিংসা করো না পরস্পর বিরুদ্ধাচরন করো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে থেকো। কোন মুসলমানের জন্য তিন দিনের বেশী তার ভাইকে পরিত্যাগ করে থাকা জায়িয নয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৩৯

নভে. 052013
 

ইসমাঈল ইবন আবূ উয়াইস (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ আমাকে জিবরাঈল (আঃ) সব সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসীয়ত করে থাকেন। এমনকি, আমার মনে হয়, তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দিবেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৮৯

নভে. 052013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার আরয করলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আমি জাহিলী অবস্থায় অনেক সাওয়ারের কাজ করেছি। যেমন আত্মীয়তার হক আদায়, গোলাম আযাদ এবং দান-খয়রাত, এসব কাজে কি আমি কোন সাওসাব পাব? হাকীম (রাঃ) বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ পুর্বের এসব নেকীর কাজের দরুনিতো তুমি ইসলাম গ্রহণ করতে পেরেছ। ইমাম বুখারী (রহঃ) অন্যত্র আবূল ইয়ামান সূত্রে (আতাহান্নাছুর স্থলে) আতাহান্নাতু বর্ণনা করেছেন। (উভয় শব্দের অর্থ একই)! মা-মার, সালিহ ও ইবন মুসা ব্বিও আতাহান্নাছু রিওয়াত করেছেন। ইবন ইসহাক (রহঃ) বলেন, তাহান্নুছ অর্থ নেক কাজ করা। ইবন শিহাব তার পিতা সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৬৬

নভে. 052013
 

মুহাম্মাদ ইবন কাসীর (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী সুফিয়ান বলেন, আমরা এ হাদীস মারফুরুপে বর্ণনা করেননি। অবশ্য হাসান (ইবন আমর) ও ফিতর (রহঃ) একে নাবী (সাঃ) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ননা করেছেন। নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ প্রতিদানকারী আত্মীয়তার হক আদায়কারী নয়। বরং আত্মীয়তার হক আদায়কারী সে ব্যাক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরও তা বজায় রাখে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৬৫