নভে. 142013
 

হযরত বিশর ইবনু মারহুম (রহঃ) হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যাক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। আরেক ব্যাক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যাক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার থেকে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয়না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০৮৬

নভে. 132013
 

হযরত মূসাদ্দাদ (রহঃ) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিঙ্গা লাগালেন এবং যে তাঁকে শিঙ্গা লাগিয়েছে, তাকে তিনি মজুরী দিলেন। যদি তা হারাম হতো তবে তিনি তা দিতেন না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৭৩

নভে. 132013
 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) হযরত ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, আবূ তায়বা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে শিঙ্গা লাগালেন, তখন তিনি তাকে এক সা’ পরিমান খেজুর দিতে আদেশ করলেন এবং তার মালিককে তার দৈনিক পারিশ্রমিকের হার কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৭২

নভে. 102013
 

মূসা দ্দাস (রহঃ) ইব্‌ন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতীতের জাতিসমূহের সঙ্গে তোমাদের জীবনকালের তুলনা হচ্ছে আসর ও মাগরিব সালাত (নামায)-এর মধ্যবর্তী সময়কালের মত। তোমাদের এবং ইহুদী-নাসারাদের উদাহরণ হচ্ছে ঐ ব্যাক্তির ন্যায়, যে শ্রমিকদের কাজে নিযুক্ত করে তাদেরকে বলল, “তোমাদের মধ্যে কে কীরাতের বিনিময়ে দ্বি-প্রহর পর্যন্ত কাজ করবে”? ইহুদীরা কাজ করল। তারপর সেই ব্যাক্তি আবার বলল, তোমাদের মধ্যে কে এক কীরাতের বিনিময়ে দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত কাজ করবে? নাসারার কাজ করল। এরপর তোমরা (মুসলামানরা) আসরের সালাত (নামায)-এর পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রত্যেক দু’কীরাতের বিনিময়ে কাজ করেছ। তারা বলল, আমরা কম মজুরি নিয়েছি এবং বেশী কাজ করেছি। তিনি (আল্লাহ) বলবেন, আমি কি তোমাদের অধিকারের ব্যাপারে জুলুম করেছি? তারা উত্তরে বলবে, না। এরপর আল্লাহ বলবেন, এটা আমার দয়া, আমি যাকে ইচ্ছা দিতে থাকি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৫১

নভে. 072013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের মূল্য যিনাকারিনার মজুরী ও গণকের পারিশ্রমিক দিতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৪৯

নভে. 072013
 

সীদান ইবন মুদারিব আবূ মুহাম্মদ বাহিলী (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সাহাবীগণের একটি দল একটি কুপের পাশে নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুপের পাশে মধ্যে ছিল সাপে কাটা এক ব্যাক্তি কিংবা তিনি বলেছেন দংশিত এক ব্যাক্তি। তখন কুপের কাছে একজন এসে তাদের বলল আপনাদের মধ্যে কি কোন ঝাড়-ফুককারী আছেন? কুপ এলাকায় একজন সাপ বা বিচ্ছু দংশিত লোক আছে। তখন সাহাবীগণের মধ্যে একজন সেখানে গেলেন। এরপর কিছু বকরী দানের বিনিময়ে তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন (এবং ফুক দিলেন)। ফলে লোকটি আরোগ্য লাভ করল। এরপর তিনি বকরীগুলো নিয়ে তাঁর সাথীদের নিকট আসলেন কিন্তু তাঁরা কাজটি পছন্দ করলেন না। তারা বললেনঃ আপনি আল্লাহর কিতাবের উপর বিনিময় গ্রহণ করেছেন। অবশেষে তারা মদিনায় পৌছে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর দরবারে যেয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি আল্লাহর কিতাবের উপর বিনিময় গ্রহণ করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যে সকল জিনিসের উপর তোমরা বিনিময়ে গ্রহণ করে থাকো তম্মধ্যে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর কিতাব।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩২৬

নভে. 072013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবীদের মধ্যে কতিপয় সাহাবী আরবের এক গোত্রের নিকট আসলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোন মেহমানাদারী করল না। তারা সেখানে থাকা কালেই হঠাৎ সেই গোত্রের নেতাকে সর্প দংশন করছেন। তখন তারা এসে বলল আপনাদের কাছে কি কোন ঔষধ আছে কিংবা আপনাদের মখ্যে ঝাড়-ফুকারী কোন লোক আছে কি? তারা উত্তর দিলেনঃ হ্যা। তবে তোমরা আমাদের কোন মেহমানদারী করনি। কাজেই আমাদের জন্য কোন বিনিময় নির্ধারণ না করা পর্যন্ত আমরা তা করবো না। ফলে তারা তাদের জন্য এক পালবকরী বিনিময় স্বরুপ দিতে রাযী হল। তখন একজন সাহাবী উম্মুল কুরআন (সূরা-‘ফাতিহা) পড়তে লাগলেন এবং মুখে থুথু জমা করে তা সে ব্যাক্তির গায়ে ছিঁটিয়ে দিলেন। ফলে সে আরোগ্য লাভ করল। এরপর তারা বকরীগুলো নিয়ে এসে বললো, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করার পুর্বে এটি স্পর্শ করবো না। এরপর তাঁরা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুনে হেসে দিলেন এবং বললেন তোমরা কিভাবে জানলে যে এটি রোগ নিরাময়কারী? ঠিক আছে বকরীগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও এক অংশ রেখে দিও।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩২৫

নভে. 072013
 

মুহাম্মদ ইবন মুকাতিল (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, তকে শিঙ্গা প্রয়োগের পারিশ্রমিক প্রদানের ব্যপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিঙ্গা লাগিয়েছেন। আবূ তায়বা তাকে শিঙ্গা লাগায়। এরপর তিনি তাকে দুই সা খাদ্যবস্তু প্রদান করেন। সে তার মালিকদের সংগে এ ব্যাপারে আলোচনা করলে তারা তার থেকে পারশ্রমিকের পরিমান লাঘব করে দেয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেনঃ তোময়া যে সকল জিনিসের দ্বারা চিকিৎসা কর সেগুলোর মখ্যে সবচেয়ে উত্তম হল শিঙ্গা লাগানো এবং সামুদ্রিক চন্দন কাঠ ব্যাবহার করা। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের শিশুদের জিহবা তালু টিপে কষ্ট দিও না। বরং তোমরা চন্দন কাঠ (ধোয়া) ব্যবহার কর।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫২৯৩

অক্টো. 292013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘আমার উত্তরাধিকারীরা কোন স্বর্ণ মুদ্রা এবং রোপ্য মুদ্রা ভাগাভাগি করবে না, বরং আমি যা কিছু রেখে গেলাম তা থেকে আমার সহধর্মিনীদের খরচ এবং কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সাদকা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৮৭

অক্টো. 282013
 

মূসা ইব্‌ন ইসমাঈল (রহঃ) আবদুল্লাহ (ইব্‌ন উমর) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) খায়বরের জমি (ইয়াহূদীদেরকে) এ শর্তে দিয়েছিলেন যে, তারা তাতে কৃষি কাজ করে ফসল উৎপাদন করবে এবং উতপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদের প্রাপ্য হবে। ইব্‌ন উমর (রাঃ) নাফি’ (রহঃ)- কে বলেছেন যে, রাসূল (সাঃ) – এর যামানায় কিছু মূল্যের বিনিময়ে যা পরিমাণটা নাফি’ নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, কিন্তু আমার তা মনে নেই, জমি ইজারা দেওয়া হত। রাফি ইব্‌ন খাদীজ (রাঃ) রিওয়ায়েত করেন যে, নাবী (সাঃ) শস্যক্ষেত বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) নাফি’-এর বরাত দিয়ে ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে (এতটুকু অতিরিক্ত) বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাঃ) কর্তৃক ইয়াহূদীদেরকে তাড়িয়ে দেয়া পর্যন্ত (খায়বরের জমি তাদের নিকট ইজারা দেওয়া হত)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ইজারা হাদিস নাম্বারঃ ২১৪১