নভে. 182013
 

কুতাইবা (রহঃ) ইবনু হানাফিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) যদি উসমান (রাঃ)-এর সমালোচনা করতেন, যেদিন তাঁর নিকট কিছু লোক এসে উসমান (রাঃ) কর্তক কিছু যাকাত উসূলকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেণ। আলী (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন, উসমান (রাঃ)-এর নিকট যাও এবং তাঁকে সংবাদ দাও যে, এটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর ফরমান। কাজেই আপনার কর্মচারীদের কাজ করার আদেশ দিন। তারা যেন সে অনুসারে কাজ করে। তা নিয়ে আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আমার এটির দরকার নেই। তারপর আমি তা নিয়ে আলী (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করি। তখন তিনি বললেন, এটি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও। হুমাইদী (রহঃ) ইবনু হানাফিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেন, আমাকে পাঠিয়ে বলেন, এ ফরমানটি নাও এবং এটি উসমান (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও, এতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সা’দকা (যাকাত) সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন। হুমাইদী (রহঃ) ইবনু হানাফিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেন, আমাকে পাঠিয়ে বলেন, এ ফরমানটি নাও এবং এটি উসমান (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাও, এতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সা’দকা (যাকাত) সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৯২

নভে. 172013
 

মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আমর ইবনু হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যুদ্ধাস্ত্র সা’দা খচ্চর ও কিছু যমীন ব্যতীত কিছুই রেখে যান নি এবং তাও তিনি সা’দকারূপে রেখে গেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৭৯

নভে. 172013
 

আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ)উম্মূল মুমিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর ইন্তেকালের পর তাঁর মিরাস বন্টনের দাবী করেন। যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফায় (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসাবোল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক তাঁকে প্রদত্ত সম্পদ থেকে রেখে গেছেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমাদের পরিত্যাক্ত সম্পদ বন্টিত হবে না আমরা যা ছেড়ে যাই, তা সা’দকা রূপে গণ্য হয়। ’ এতে ফাতিমা বিনতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) সিদ্দীক এর সঙ্গে কথাবার্তা বলা ছেড়ে দিলেন। এ অবস্থা তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স -এর ওফাতের পর ফাতিমা (রাঃ) ছয় মাস জীবিত ছিলেন। আয়িয়শা (রাঃ) বলেন, ফাতিমা (রাঃ) আবূ বাকল সিদ্দী (রাঃ)-এর নিকট রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক ত্যাজ্য খায়বার ও ফাদাকের ভূমি এবং মদিনা সা’দকাতে তাঁর অংশ দাবী করেছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানোান এবং তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা আমল করতেন, আমি তাই আমল করব। আমি তাঁর কোন কিছুই ছেড়ে দিতে পারি না। কেননা, আমি আশঙ্কা করি যে, তাঁর কোন কথা ছেড়ে দিয়ে আমি পথভুষ্ট হয়ে না যাই। অবশ্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর মদিনার সা’দকাকে উমর (রাঃ) তা আলী ও আববাস (রাঃ)-কে হসত্মামত্মর করেন। আর খায়বার ও ফাদাকের ভূমিকে পূর্ববত রেখে দেন। উমর (রাঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ সম্পত্তি দু’টিকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জরুরী প্রয়োজন পূরণ ও বিপথকালীন সময়ে ব্যায়ের জন্য রেখেছিলেন। সুতরাং এ সম্পত্তি দু’টি তারই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, যিনি মুসলমানদের শাসন ক্ষমতার অধিকারী খলিফা হবেন। ’ যুহরী (রহঃ) বলেন, এ সম্পত্তি দু’টির ব্যবস্থাপনা অদ্যবধি সেরূপই রয়েছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৭৪

নভে. 172013
 

মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাসান ইবনু আলী (রাঃ) সা’দকার খেজুর থেকে একটি খেজুর নিয়ে তা তাঁর মুখে রাখেন। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাখ্-কাখ্ (ফেলে দাও, ফেলে দাও) বললেন, তুমি কি জানো না যে, (বানূ হাশিম) (রহঃ) বলেন, উম্মে খালিদের মত কোন মহিলা এত দীর্ঘজীবী হয়নি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৫৫

নভে. 172013
 

ইসমাঈল (রহঃ) উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাহে একটি ঘোড়া দান করি। সে তা বিক্রি করতে চেয়েছিল কিংবা যার নিকট সেটা ছিল সে তাকে বিনষ্ট করার উপক্রম করেছিল। আমি ঘোড়াটি ক্রয় করতে ইচ্ছা করলাম। আর আমি ধারণা করেছিলাম যে, সে তাকে সস্তায় বিক্রি করে দিবে। আমি এ বিষয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তুমি তা ক্রয় কর না, যদিও তা একটি মাত্র দিরহামের বিনিময়ে হয়। কেননা সা’দকা দান করত ফেরত গ্রহণকারী এমন কুকুরের তুল্য, যে বমি করে পুনরায় তা খায়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৯৫

নভে. 172013
 

ইসহাক (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, প্রত্যেক দিন যাতে সূর্য উদিত হয়, তাতে মানুষের দেহের প্রতিটি জোড়া হতে একটি মানুষের প্রত্যেক জোড়ার প্রতি সদকা রয়েছে। পতি দিন যাতে সূর্য উদিত হয়। দু’জন লোকের মধ্যে সুবিচার করাও সা’দকা। কাউকে সাহায্য করে সাওয়ারীতে আরোহণ করিয়ে দেওয়া বা তার উপরে তার মালপত্র তুলে দেওয়াও সা’দকা। ভাল কথাও সা’দকা। সালাত (নামায) আদায়ের উদ্দেশ্যে পথ চলায় প্রতিটি কদমেও সা’দকা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও সা’দকা।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৮১

নভে. 172013
 

ইসমাঈল (রহঃ)আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) জনৈক অশ্বারোহীকে আল্লাহর রাহে একটি অশ্ব দান করেন। এরপর তিনি দেখতে পান যে, তা বিক্রয় করা হচ্ছে। তখন তিনি তা ক্রয় করার ইচ্ছা করলেন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি (রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার প্রদত্ত সা’দ্কা ফেরত নিও না’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৬৩

নভে. 172013
 

হুমায়দী (রহঃ) উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাহে একটি অশ্ব আরোহণের জন্য দান করেছিলাম। তারপর আমি তা বিক্রয় হতে দেখতে পাই। আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আমি কি তা ক্রয় করে নিব?’ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘না, তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার (প্রদত্ত) সা’দকা ফেরত নিও না’।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৬২

নভে. 162013
 

ইসহাক ইবনু নাসর(রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘শরীরের প্রতিটি জোড়ার উপর প্রতিদিন একটি করে সা’দকা রয়েছে। কোন লোককে তাঁর সাওয়ারীর উপর উঠতে সাহায্য করা, অথবা তাঁর মাল-সরঞ্জাম তুলে দেয়া সা’দকা। উত্তম কথা বলা ও সালাত (নামায)-এর উদ্দেশ্যে প্রতিটি পদক্ষেপ সা’দকা এবং (পথিককে) রাস্তা বাতলিয়ে দেওয়া সা’দকা। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৬৯২

নভে. 152013
 

মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপ্রাপ্ত বয়স্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক, আযাদ ও গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’ যব অথবা এক সা’ খেজুর সা’দকাতুল ফিতর হিসাবে আদায় করা ফরয করে দিয়েছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৪২৪