নভে. 122013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ) সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যাক্তি ইবনু উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করল, আল্লাহর সাথে বান্দার গোপন আলাপ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে আপনি কি বলতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ আমাদের কেউ তার প্রতিপালকের নিকটস্থ হলে তিনি তাঁর ওপয় রহমতের আবরণ বিস্তার করে জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কি এই কাজ করেছ? সে বলবে, হ্যা। – আল্লাহ আবারো জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কি এই কাজ করেছ? সে তখনো বলবে, হ্যা। আল্লাহ এভাবে তার স্বীকারোক্তি নেবেন। তারপর আল্লাহ বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার ওসব কাজ গোপন রেখেছিলাম। আমি আজকেও তোমার জন্য তা মাফ করে দিলাম। আদম (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ওনেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০০৬

নভে. 092013
 

আব্দুল্লাহ ইবন সাব্বাহ (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে একটি বিষয় গোপনে বলেছিলেন। আমি তার পরেও কাউকে তা জানাইনি। এটা সম্পর্কে উম্মে সুলায়ম (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু আমি তাকেও বলি নি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অনুমতি চাওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৫৮৫২

নভে. 052013
 

আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইবন সাঈদকে বললেনঃ আমি তোমার জন্য একটি কথা গোপন রেখেছি, তুমি বলতো সেটা কি? সে বলল: ‘দুখ’ তখন তিনি বললেনঃ দূর হও। (অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে পরীক্ষার জন্য সূরা দুখান কল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সে পূর্ন নাম না বলে কেবল দূখ- বলেছে। এতে বোঝা যায় যে তার জানো স্পষ্ট ছিল না। )

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৪১

নভে. 052013
 

মুসা জাদ (রহঃ) -সাফওয়ান ইবন মুহরিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি ইবন উমর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করল: আপনি -নাজওয়া- (কিয়ামতের দিন আল্লাহ ও তাঁর মুমিন বান্দার মধ্যে গোপন আলোচনা) সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কি বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের এক ব্যাক্তি তার রবের এমন নিকটবর্তী হবে যে তিনি তার উপর তাঁর নিজস্ব পর্দা ঢেলে দিয়ে দু-বার জিজ্ঞাসা করবেন: তুমি অমুক অমুক কাজ করেছিলে? সে বলবে: হ্যা। আবার তিনি জিজ্ঞাসা করবেন: তুমি এমন এমন কাজ করেছিলে? সে বলবে হ্যা। এভাবে তিনি তার স্বীকরোক্তি নিবেন। এরপর বলবেন আমি দুনিয়াতে তোমর এগুলো ঢেকে রেখেছিলাম। আজ আমি তোমার এসব গুনাহ মাফ করে দিচ্ছি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৪৪

নভে. 052013
 

আবদুল আযীয ইবন আবদূল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়ই ধৃষ্টতা যে, কোন ব্যাক্তি রাতে অপরাধ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে ভোর হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক। আমি আজরাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অড়িবাহিত করল সে, আল্লাহ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর পর্দা খূলে ফেলল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৪৩

অক্টো. 302013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা ধারণা করা পরিহার কর, কেননা, ধারণা করা হচ্ছে সর্বাধিক মিথ্যা। কারও দোঁষ তালাশ করো না, দোষ-বের করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা পোষণ করো না, পরিবারে সম্পর্কচ্ছেদ করো না। আল্লাহর বান্দা পরস্পরে ভাই ভাই হয়ে যাও।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ উত্তরাধিকার হাদিস নাম্বারঃ ৬২৬৯

অক্টো. 302013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌ন বুকাই (রহঃ) আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পুরণ করবে আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন। যে ব্যাক্তি (পৃথিবীতে) কোন মুসলমানের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যাক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যুলম ও কিসাস হাদিস নাম্বারঃ ২২৮০

অক্টো. 302013
 

মূসা ইব্‌ন ইসমাঈল (রহঃ) সাফওয়ান ইব্‌ন মুহরিয আল- মাযিনী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি ইব্‌ন উমর (রাঃ) এর সাথে তাঁর হাত ধরে চলছিলাম। এ সময় এক ব্যাক্তি এসে বলল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর মু’মিন বান্দার একান্তে কথাবার্তা সম্পর্কে আপনি রাসূল (সাঃ) কে কি বলতে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন, আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা মু’মিন ব্যাক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বলবেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জানো? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক। এভাবে তিনি তার কাছ থেকে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে যে, তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন করে রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব। তারপর তার নেকের আমলনামা তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে স্বাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, জালিমদের উপর আল্লাহর লা’নত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যুলম ও কিসাস হাদিস নাম্বারঃ ২২৭৯