নভে. 072013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন মুকাতিল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সালাত (নামায)) দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ সূরা পাঠ করলেন, এরপর রুকু’ করলেন, আর তা দীর্ঘ করলেন। তারপর রুকু’ থেকে মাথা তুলেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করতে শুরু করলেন। পরে রুকু’ সমাপ্ত করে সিজ্‌দা করলেন। দ্বিতীয় রাকা’আতেও এরূপ করলেন। তারপর বললেনঃ এ দু’টি (চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহন) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তোমরা তা দেখলে গ্রহন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত (নামায) আদায় করবে। আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে, আমাকে যা ওয়াদা করা হয়েছে তা সবই দেখতে পেয়েছি। এমন কি যখন তোমরা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে দেখেছিলে তখন আমি দেখলাম যে, জান্নাতের একটি (আঙুর) গুচ্ছ নেওয়ার ইচ্ছা করছি। আর যখন তোমরা আমাকে পিছনে সরে আসতে দেখেছিলে আমি দেখলাম জাহান্নাম, সেখানে আমর ইব্‌ন লুহাইকে যে সায়িবাহ১ প্রথা প্রবর্তন করেছিল। ১ বহুবচন, একবচনে – অর্থ বিমুক্ত, পরিত্যাক্ত, বাঁধনমুক্ত। জাহিলী যুগে দেব-দেবীর নামে উট ছেড়ে দেওয়ার কু-প্রথা ছিল। এসব উটের দুধ পান করা এবং তাকে বাহনরূপে ব্যবহার করা অবৈধ মনে করা হত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১১৩৯

নভে. 032013
 

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) আবূ মাসইদ থেকে বর্ণিত, নাবী (সাঃ) বলেন, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহন কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না বরং উভয়টি আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে থেকে দু’টি নিদর্শন। অতএব যখন তোমরা তা সংঘটিত হতে দেখবে তখন সালাত (নামায) আদায় করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ২৯৭৭

নভে. 032013
 

ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যেদিন সূর্য গ্রহণ হল, সেদিন রাসূল (সাঃ) সালাত (নামায) দাঁড়ালেন। তারপর তাকবীর বললেন, এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তারপর দীর্ঘ রুকু করলেন এরপর তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন এবং তিনি পূর্বের ন্যায় দাঁড়ালেন। আর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন কিন্তু তা প্রথম কিরাআত থেকে কম ছিল। এরপর তিনি দীর্ঘক্ষণ রুকু‘ করলেন কিন্তু তা প্রথম রাকাআতের তুলনায় কম ছিল। তারপর তিনি দীর্ঘ সিজদা করলেন। তিনি শেষ রাকাআতেও অনুরূপই করলেন, পরে সালাম ফিরালেন। এ সময় সূর্য উজ্জল হয়ে গিয়েছে। তখন তিনি লোকজনকে লক্ষ্য করে খুতবা দিলেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ সম্পর্কে বললেন, অবশ্যই এ দু’টি আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে থেকে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ-চন্দ্র গ্রহণ হয় না। অতএব যখনই তোমরা তা সংঘঠিত হতে দেখবে তখনই সালাত (নামায) ভয়-ভীতি নিয়ে ধাবিত হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ২৯৭৬

নভে. 032013
 

ইসমাঈল ইবন আবূ উওয়াইস (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন, সূর্য ও চন্দ্র এ দু’টোই আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারনে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহন হয় না। অতএব যখন তোমরা তা সংঘটিত হতে দেখবে তখন আল্লাহর যিকর করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ২৯৭৫

নভে. 032013
 

ইয়াহইয়া ইবন সুলাইমান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেন, কারো মৃত্যু এবং জন্মের কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ হয় না, বরং এ দুটোই আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে দু’টি নিদর্শন মাত্র। অতএব যখন তোমরা তা সংঘটিত হতে দেখবে তখন সালাত (নামায) আদায় করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ২৯৭৪

অক্টো. 182013
 

আবদুল্লাহ্‌ইব্‌ন ইউসুফ (রহঃ) হযরত আবদুল্লাহ্‌ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর জীবদ্দশায় একদিন সুর্য গ্রহন আরম্ভ হল। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সালাত (নামায)ুল খুসুফ বা সুর্যগ্রহনের সালাত (নামায) পড়লেন এবং লোকেরাও তার সাথে অংশগ্রহণ করল। তিনি এত দীর্ঘক্ষন কিয়াম করলেন, যাতে সূরা বাকারার সমপরিমাণ কুরআন পাঠ করা যায়। এরপর তিনি দীর্ঘক্ষন রুকূ করলেন এবং মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকলেন; এ প্রথম কিয়ামের চেয়ে কম সময় ছিল। তারপর কুরআন তিলাওয়াত করলেন, পুনরায় দীর্ঘক্ষন রুকূ করলেন। কিন্তু এবারের রুকূর পরিমাণ পুর্বের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর তিনি কিয়াম করলেন, কিন্তু এবারের সময় ছিল পুর্বের কিয়ামের চেয়ে সল্পস্থায়ী। এরপর পুনরায় তিনি রুকূতে গেলেন, কিন্তু এবারের রুকূর সময় পূর্ববর্তী রুকূর সময়ের চেয়ে কম ছিল। এরপর পুনরায় তিনি দাঁড়ালেন। কিন্তু এবারে দাঁড়াবার সময় ছিল পুর্বের চেয়েও কম। এরপর রুকূতে গেলেন; এবারের রুকূর সময় পুর্ববর্তী রুকূর চেয়ে কম ছিল। তারপর সিজদায় গেলেন এবং সালাত (নামায) শেষ করলেন। ততক্ষনে সুর্যগ্রহন শেষ হয়ে গেছে। এরপর নাবী (সাঃ) বললেন, চন্দ্র এবং সুর্য এ দু’টি আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহন হয় না। তাই তোমার যখন প্রথম গ্রহন দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। এরপর তাঁরা বলল, ইয়া রাসূল (সাঃ) ‌! আমরা আপনাকে দেখতে পেলাম যে, আপনি কিছু নেয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছেন, এরপর আবার আপনাকে দেখতে পেলাম যে, আপনি পিছনের দিকে সরে এলেন। নাবী (সাঃ) বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম অথবা আমাকে জান্নাত দেখান হয়েছে এবং আমি সেখান থেকে আঙ্গুরের থোকা ছিঁড়ে আনার জন্য হাত বাড়ালাম এবং তা যদি আমি ধরতে পারতাম, তবে তোমরা তা থেকে পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত খেতে পারতে। এরপর আমি দোযখের আগুন দেখতে পেলাম। আমি এর পূর্বে কখনও এত ভয়াবহ দৃশ্য দেখিনি এবং আমি আরও দেখতে পেলাম যে, তার অধিকাংশ আদিবাসীই নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূল (সাঃ) ‌! এর কারন কি? তিনি বললেন, এটা তাদের অকৃতজ্ঞতার ফল স্বরূপ। লোকেরা বলল, তার কি আল্লাহ তা’আলার সাথে নাফরমানী করে? তিনি বললেন, তারা তাদের স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ দেখানো হয়, তার জন্য তাদের শোকর নেই। তোমারা যদি সারা জীবন তাদের সাথে ভাল ব্যবহার কর; কিন্তু তারা যদি কখনও তোমার দ্বারা কষ্টদায়ক কোন ব্যবহার দেখতে পায়, তখন বলে বসে, আমি তোমার থেকে জীবনে কখনও ভাল ব্যবহার পেলাম না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বিয়ে-শাদী হাদিস নাম্বারঃ ৪৮১৮

অক্টো. 142013
 

ইসমাইল (রহঃ) আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি একবার রাসূল (সাঃ) এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ) এর কাছে এলাম। তখন সুর্য গ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করছে এবং ‘আয়িশা (রাঃ)- ও দাঁড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম লোকদের কী হয়েছে? তিনি তাঁর হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত কের বললেন, ‘সুবহান আল্লাহ্’! আমি বললাম এটা কি কোন আলামত? তিনি ইশারা করে বললেন, ‘হ্যাঁ’। এরপর আমিও সালাত (নামায) দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি আমাকে সংজ্ঞাহীনতায় আচ্ছন্ন করে ফেলল এবং আমি আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম। তারপর রাসূল (সাঃ) (মুসল্লিদের দিকে) ফিরে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করে বললেন, “যেসব জিনিস আমি ইতিপূর্বে দেখিনি সেসব আমি আমার এই স্থানে আমি দেখতে পেয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর আমার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা তার কাছাকাছি। ” বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাঃ) কোনটি বলেছিলেন, আমি জানিনা। তোমাদের প্রত্যেকের কাছে (ফিরিশতা) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, “এ ব্যাক্তি সম্পর্কে তোমার কি জ্ঞান আছে?” –তারপর ‘মু’মিন, বা ‘মু’কিন’ ব্যাক্তি বলবে- আসমা ‘মুমিন’ বলেছিলেন না ‘মুকিন’ তা আমি জানিনা- ইনি মুহাম্মদুর রাসূল (সাঃ) । তিনি আমাদের কাছে মু‘জিযা ও হিদায়ত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তারপর তাকে বলা হবে নিশ্চিতে ঘুমাও। আমরা জানোলাম যে, তুমি মু’মিন ছিলে। আর ‘মুনাফিক’ বা ‘মুরতাব’ বলবে, – আমি জানিনা। আসমা এর কোনটি বলেছিলেন তা আমি জানিনা- লোকজনকে এঁর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ উযূ হাদিস নাম্বারঃ ১৮৪

অক্টো. 132013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার সুর্যগ্রহণের সময় আমি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট এলাম। লোকেরা তখন (সালাত (নামায)) দাঁড়িয়েছিল এবং তিনিও দাড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, লোকদের কি হল? তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি মাথা দুলিয়ে হাঁ বললেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন সালাত (নামায) শেষ করলেন, তখন (প্রথমে) তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন। তারপর বললেনঃ আমি যা দেখিনি তার সবকিছুই আজকের এই স্থানে দেখেছি। এমন কি জান্নাত ও জাহান্নামও দেখেছি। আর আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হবে, যা প্রায় দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায়ই (কঠিন) হবে। তবে যারা মুমিন হবে, অথবা (বলেছিলেন) মুসলিম হবে। বর্ননাকারী বলেনঃ আসমা (রাঃ) -মুমিন- বলেছিলেন, না মুসলিম- বলেছিলেন তা আমার স্বরন নেই। তারা বলবে, মুহাম্মাদ আমাদের কাছে সূস্পষ্ট দলীল নিয়ে এসেছিলেন, আমরা তার আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং ঈমান এনেছি। তখন তাকে বলাহবে, তুমি আরামে ঘুমিয়ে থাক, আমরা জানি তুমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী ছিলে। আর যারা মুনাফিক হবে অথবা (বলেছিলেন) সন্দেহকারী হবে, বর্ণনাকারী বলেনঃ আসমা মুনাফিক- বলেছিলেন না সন্দেহকারী- বলেছিলেন তা আমার মনে নেই। তারা বলবে, আমি কিছুই জানিনা, আমি মানুষকে কিছু কথা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৮৯

অক্টো. 132013
 

মুহাম্মাদ ইবন আবূ বকর (রহঃ) আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য গ্রহণের সময় আমাদেরকে গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দেওয়া হতো।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ গোলাম আযাদ করা হাদিস নাম্বারঃ ২৩৫৪

অক্টো. 132013
 

মূসা ইবন মাসউদ (রহঃ) আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলী (রহঃ) দরাওয়ারদী (রহঃ) সূত্রে হিশাম (রহঃ) হাদীস বর্ণনায় মূসা ইবন মাসউদ (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ গোলাম আযাদ করা হাদিস নাম্বারঃ ২৩৫৩