নভে. 122013
 

মাহমূদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে- বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত (নামায) আদায় করতেন তখন এ দোয়া করতেনঃ হে আল্লাহ! সব প্রশংসা একমাত্র তোমারই, তুমিই আসমান ও যমীনের নূর। তোমারই সমন্ত প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীনের একমাত্র পরিচালক। তোমারই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীন এবং এ দু-য়ের মধ্যে বিদ্যমান সব কিছু প্রতিপালক। তুমি মহাসত্য। তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য। তোমার বানী সত্য। তোমার সাক্ষাৎ সত্য। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণ সত্য। কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! তোমারই জন্য আনুগত্য (ইসলাম) স্বীকার করি। তোমারই প্রতি ঈমান আনি। তোমারই ওপর তাওয়াক্কুল করি এবং তোমারই দিকে রুজু করি। তোমারই উদ্দেশ্যে বিতর্ক করি। তোমার কাছেই আমি ফায়সালা চাই। সুতরাং আমার আগের ও পরের গোপনীয় ও প্রকাশ্য সর্বপ্রকার গুনাহ মাফ করে দাও। তুমিই আমার একমাত্র মাবুদ। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৯০

নভে. 122013
 

সাবিত ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত (নামায) আদায় করতেন, তখন বলতেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ! সব প্রশংসা একমাত্র আপনারই, আসমান ও যমীনের তত্ত্বাবধায়ক আপনিই এবং আপনারই জন্য সব তুস্তি। আসমান ও যমীন এবং এসবের মধ্যকার সবকিছুর প্রতিপালক আপনিই এবং আপনার জন্য সব প্রশংসা আসমান যমীন ও এগুলোর মধ্যকার সব কিছুর নূর আপনিই। আপনি হক, আপনার বান্দা হক, আপনার ওয়াদা হক, আপনার সাক্ষাৎ হক, জান্নাত হক, জাহান্নাম হক এবং কিয়ামত হক। ইয়া আল্লাহ! আপনারই উদ্দেশ্যে আমি ইসলাম কবুল করেছি এবং আপনারই প্রতি ঈমান এনেছি, তাওয়াক্কূল করেছি আপনারই ওপর, আপনারই কাছে বিবাদ হাওয়ালা করেছি: আপনারই কাছে ফায়সালা চেয়েছি। তাই আপনি আমার পূর্বের ও পরের গুপ্ত ও প্রকাশ্য এবং যা আপনি আমার চাইতে বেশি জ্ঞাত তা সবই মাফ করে দিন। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। বর্ননাকারী তাঊস (রহঃ) থেকে কায়স ইবন সাদ (রহঃ) এবং আবূ যুবায়র (রহঃ) ‘কায়্যুম’-এর এর স্থলে ‘কায়্যাম’ বর্ননা করেছেন। বর্ননাকারী মুজাহিদ বলেনঃ ‘কায়্যুম’ সবকিছু পরিচালককে বলা হয়ে থাকে। উমর (রাঃ) ‘কায়্যাম’ পড়েছেন। মূলত শব্দ উভয়টিই প্রশংসার জন্য ব্যবহত হয়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৩৪

নভে. 082013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাহাজ্জুদের সালাত (নামায) দাড়াতেন, তখন বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! সন্মুখে প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি রক্ষক আসমান ও যমীনের এবং যা কিছু এগুলোর মধ্যে আছে, আপনিই তাদের নূর। আর যাবতীয় প্রশংসা শুধূ আপনারই। আসমান যযীন এবং এ দুএর মধ্যে যা আছে, এসব কিছুকে সুদৃঢ় ও কায়েম রাখার একমাত্র মালিক আপনিই। আর সমস্থ প্রশংসা একমাত্র আপনারই। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার কথা সত্য, আখিরাতে আপনার সাক্ষাত লাভ করা সত্য, বেহেশত সত্য, দোযখ সত্য, কিয়ামত সত্যা পয়গাম্বরগন সত্য, এবং মুহাম্মদ সত্য। ইয়া আল্লাহ! আপনারই কাছে আত্মসমর্পন করেছি। আমি একমাত্র আপনারই উপর ভরসা রাখি। একমাত্র আপনারই উপর ঈমান এনেছি। আপনারই দিকে ফিরে চলছি। শত্রু দের সাথে আপনারই খাতিরে শত্রুতা করি। আপনারই নিকট বিচার চাই। অতএব আমার আগের পরের এবং লুকায়িত প্রকাশ্য গুনাহ আপনি মাফ করে দিন। আপনিই কাউকে এগিয়ে দাতা, আর কাউকে পিছিয়ে দাতা আপনি ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৮৭৮

নভে. 082013
 

আলী ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি মায়মুনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটালাম। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে তার প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুইয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার জেগে উঠে পানির মাশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন উজূ করলেন যে; তাতে বেশী পানি লাগালেন না। অথচ পূরা উযূই করলেন। তারপর তিনি সালাত (নামায) আদায় করতে গাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছু দেরী করে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক আমি উজূ করলাম। তখনও তিনি দাড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করছিলেন। সুতরাং আমি গিয়ে তাঁর বাম দিকে দাড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তার ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তার তেরো রাকা আত সালাত (নামায)পূর্ন হলো। তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমন কি নাক ডাকাতেও লাগলেন। তার অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমে নাক ডাকাতেন। এরপর বিলাল (রাঃ) এসে তাকে জাগালেন। তখন তিনি নতুন উজূ না করেই সালাত (নামায) আদায় করলেন। তার দু আর মধ্যে এ দু’আও ছিলঃ “ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে বামে, আমার উপর-নীচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করুন। কুরায়ব (রহঃ) বলেন, এ সাতটি আমার তাবুতের মত। এরপর আমি আববাসের পুত্রদের একজনের সঙ্গে সাক্ষাত করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা করলেন এবং রগ, গোশত! রক্ত, চুল ও চামড়ার উল্লেখ করলেন এবং আরো দুটির কথা উল্লেখ করেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৮৭৭

নভে. 072013
 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ইউসুফ (রহঃ) ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি তাঁর খালা উম্মুল মু’মিনীন মাইমুনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটালেন। তিনি বলেন, আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সহধর্মিণী বালিশের দৈর্ঘ্যে শয়ন করলেন। এরপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মধ্যরাত তার কিছু আগে বা পর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলেন। তারপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে উঠে বসলেন এবং দু’হাতে মুখমণ্ডল মুছে ঘুমের আমেজ দূর করলেন। এরপর তিনি সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। পরে একটি ঝুলন্ত মশ্‌কের দিকে এগিয়ে গেলেন এর পানি দ্বারা উত্তমরূপে উযূ করে সালাত (নামায) দাঁড়িয়ে গেলেন। আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে পড়লাম এবং তিনি যেরূপ করেছিলেন, আমিও সেরূপ করলাম। এরপর আমি তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপরে রেখে আমার ডান কান মোচড়াতে লাগলেন (এবং আমাকে তাঁর পিছন থেকে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। ) তিনি তখন দু রাকা’আত সালাত (নামায) আদায় করলেন, তারপর দু’ রাকা’আত, তারপর দু’ রাকা’আত, তারপর দু’ রাকা’আত, তারপর দু’ রাকা’আত, তারপর (শেষ দু’ রাকা’আতের সাথে আর এক রাকা’আত দ্বারা বেজোড় করে) বিত্‌র আদায় করে শুয়ে পড়লেন। অবশেষে (ফজরের জামা’আতের জন্য) মুআয্‌যিন এলেন। তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত (কিরাআতে) দু’ রাকা’আত (ফজরের সুন্নাত) আদায় করলেন। এরপর (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যান এবং ফজরের সালাত (নামায) আদায় করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১১২৪

নভে. 072013
 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ইউসুফ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে তের রাকা’আত সালাত (নামায) আদায় করতেন, এরপর সকালে (ফজরের) আযান শোনার পর সংক্ষিপ্ত (কিরাআতে) দু’ রাকা’আত সালাত (নামায) আদায় করতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১১০১

নভে. 072013
 

ইয়াহ্ইয়া ইবন বুকাইর (রহঃ)…… হায়সাম ইবন আবূ সিনান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাঁর ওয়ায বর্ণনাকালে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তোমাদের এক ভাই অর্থাৎ আবদুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহা (রাঃ) অনর্থক কথা বলেন নি। ১ “আর আমাদের মাঝে বর্তমান রয়েছেন আল্লাহ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) , যিনি আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করেন, যখন উদ্ভাসিত হয় ভোরের আলো। গোমরাহীর পর তিনি আমাদের হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন, তাই আমাদের হৃদয়সমূহ, তাঁর প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপনকারী যে, তিনি যা বলেছেন তা অবশ্য সত্য। তিনি রাত কাটান শয্যা থেকে পার্শ্বকে দূরে সরিয়ে রেখে, যখন মুশরিকরা শয্যাগুলোতে নিদ্রামগ্ন থাকে। ” আর উকাইল (রহঃ) ইউনুস (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। যুবায়দী (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রেও তা বর্ণনা করেছেন। ১ আবদুল্লাহ্ ইবন রাওয়াহা (রাঃ) আনসারী কর্তৃক রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রশংসায় রচিত কবিতার কয়েকটি পংক্তি। তিনি মুতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১০৮৮

নভে. 072013
 

সাদাকা ইবন ফায্ল (রহঃ)………… উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি রাতে জেগে ওঠে এ দু’আ পড়ে লা ইলাহা ইল্লালাহ এক আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনিই সব কিছুর উপরে শক্তিমান। যাবতীয় হামদ আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য ইলাহ্ নেই। আল্লাহ মহান, গুনাহ থেকে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত। তারপর বলে, ইয়া আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন। বা (অন্য কোন) দু’আ করে, তাঁর দু’আ কবূল করা হয়। এরপর উযূ করে (সালাত (নামায) আদায় করলে) তার সালাত (নামায) কবূল করা হয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১০৮৭

নভে. 072013
 

আব্বাস ইবন হুসাইন ও মুহাম্মদ ইবন মুকাতিল আবূল হাসান (রহঃ)…… আবদুল্লাহ্ ইবন আমর ইবন আ’স (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেনঃ হে আবদুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যাক্তির মত হয়ো না, সে রাত জেগে ইবাদাত করত, পরে রাত জেগে ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে। হিশাম (রহঃ)…… আবূ সালামা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১০৮৫

নভে. 072013
 

মুহাম্মাদ ইবন মূসান্না (রহঃ)…… উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের কোন সালাত (নামায) আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বসে কিরাআত পড়তে দেখিনি। অবশ্য শেষ দিকে বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি বসে কিরাআত পড়তেন। যখন (আরম্ভকৃত) সূরার ত্রিশ চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সে পরিমাণ কিরাআত পড়ার পর রুকূ’ করতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১০৮২