অক্টো. 292013
 

কুতাইবা ইবন সাঈদ (রহঃ)ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) তাঁর ওয়াকফে এই শর্তরোপ করেন যে, মুতাওয়াল্লী তা থেকে নিজে খেতে পারবে এবং বন্ধু বান্ধবকেও খাওয়াতে পারবে, তবে সম্পদ সঞ্চয় করতে পারবে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৮৮

অক্টো. 282013
 

আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ইউসুফ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) – কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি খেজুর গাছ তা’বীর করার পর বিক্রয় করে, তার ফল বিক্রেতার। কিন্তু ক্রেতা শর্ত করলে তা তারই। আর যদি কেউ গোলাম বিক্রয় করে। এবং তার সম্পদ থাকে তবে সে সম্পদ যে বিক্রি করর তার। কিন্তু যদি ক্রেতা শর্ত করে তাহলে তা হবে তার। মালিক (রহঃ) উমর (রাঃ) থেকে গোলাম বিক্রয়ের ব্যাপারে অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানি সিঞ্চন হাদিস নাম্বারঃ ২২২২

অক্টো. 252013
 

কুতাইবা ইবন সাইদ (রহঃ)ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি এ জমির ব্যাপারে পরামর্শের জন্য রাসূল (সাঃ) -এর কাছে এলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ) ! আমি খায়বারে এমন উৎকৃষ্ট কিছু জমি লাভ করেছি যা ইতিপূর্বে আর কখনো পাইনি। আপনি আমাকে এ ব্যাপারে কি আদেশ দেন? রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূলসত্ত্ব ওয়াকফে আবদ্ধ করতে এবং উৎপন্ন বস্ত্ত সাদকা করতে পার। ’ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, ‘উমর (রাঃ) এ শর্তে তা সাদকা (ওয়অকফ) করেন যে, তা বিক্রি করা যাবে না, তা দান করা যবে না এবং কেউ এর উত্তরাধীকারী হবে না। তিনি সাদকা করে দেন এর উৎপন্ন বস্ত্ত অভাবগ্রস্ত, আত্মীয়-স্বজন, দাসমুক্তি, আল্লাহর রাস্তায়, মুসাফির মেহমানদের জন্য। (রাবী আরো বলেন) যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য সম্পদ সঞ্চয় না করে যথাবিহীত খওয়ানোতে কোন দোষ নেই। তারপর আমি ইবন সীরিন (রহঃ)-এর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বলেন, অর্থঅৎ মাল জমা না করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৫০

অক্টো. 252013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) বলেছেন, শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রয় করবে না। আর তোমরা (দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে) দালালী করবে না। কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপরে দাম না বাড়ায় এবং কেউ যেন তার ভাইয়ের (বিয়ের) প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার বোনের (সতীনের) তালাকের চেষ্টা না করে, যেন তার পাত্রের অধিকারী হয়ে যায়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৪০

অক্টো. 252013
 

মালিক ইবন ইসমাঈল (রহঃ) রাফি ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে আমরা অধিক শষ্য ক্ষেতের মালিক ছিলাম। তাই আমরা ক্ষেত বর্গা দিতাম। কখনো এ অংশে ফসল হতো, আর ঐ অংশে ফসল হতো না। তখন তা আমাদের করতে নিষেধ করে দেওয়া হল। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে চাষ করতে দিতে নিষেধ করা হয়নি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৩৯

অক্টো. 252013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ)উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, শর্তাবলীর মধ্যে যা পূরণ করার অধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৩৮

অক্টো. 252013
 

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) খায়বার (-এর ভূমি) ইয়াহূদীদেরকে দিলেন এর শর্তে যে, তারা তাতে কাজ করবে এবং তাতে ফসল ফলাবে, তাতে যা উৎপন্ন হবে তারা তার অর্ধেক পাবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৩৭

অক্টো. 252013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারীগণ নাবী (সাঃ) -কে বললেন ‘আমাদের ও আমাদের (মুহাজিব) ভাইদের মধ্যে খেজুর গাছ ভাগ করে দিন। ’ তিনি বললেন, না। তখন তাঁরা বললেন, ‘তোমরা আমাদের শ্রমে সাহায্য করবে আর তোমাদের আমরা ফলের অংশ দিব। ’ তারা (মুহাজিরগণ) (রাঃ) বললেন, ‘আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। ’

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৩৬

অক্টো. 252013
 

আবূ নুআইম (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর এক উটের উপর সওয়ার হয়ে ভ্রমন করছিলেন, সেটি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন, নাবী (সাঃ) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং উটটিকে (চলার জন্য) আঘাত করে সেটির জন্য দু’আ করলেন। পলে উটটি এত দ্রুত চলতে লাগলো যে, কখনো তেমন দ্রুত চলেনি। তারপর তিনি বললেন, ‘এক উকিয়ার বিনিময়ে এটি আমার কাছে বিক্রি কর। ’ আমি বললাম, না। তিনি বললেন, ‘এটি আমার কাছে এক উকিয়ার বিনিময়ে বিক্রি কর। ’ তখন আমি সেটি বিক্রি করলাম। কিন্তু আমার স্বজনের কাছে পৌঁছা পর্যন্ত সওয়ার হওয়ার অধিকার রেখে দিলাম। তারপর উট নিয়ে আমি তার কাছে গেলাম। তিনি আমাকে এর নগদ মূল্য দিলেন। তারপর আমি চলে গেলাম। তখন আমার পেছনে লোক পাঠালেন। পরে বললেন, ‘তোমার উট নেওয়ার ইচ্ছা আমার ছিলনা। তোমার এ উট তুমি নিয়ে যাও এটি তোমারই মাল। ’ শু’বা (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেন যে, রাসূল (সাঃ) উটটির পেছনে মদিনা পর্যন্ত আমাকে সওয়ার হতে দিলেন। ইসহাক (রহঃ) জারীর (রহঃ) সূত্রে মুগীরা (রহঃ) থেকে বর্ণণা করেন, আমি সেটি এ শর্তে বিক্রি করলাম যে, মদিনা পৌঁছা পর্যন্ত তার পিঠে সয়ার অধিকার আমার থাকবে। ‘আতা (রহঃ) প্রমুখ বলেন, (রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন) মদিনা পর্যন্ত সওয়ার হওয়ার অধিকার তাতে তোমার থাকবে। ইবন মুনকাদির (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেন যে, তিনি মদিনা পর্যন্ত এর পিঠে সওয়ার হওয়ার শর্ত করেছেন। যায়দ ইবন আসলাম (রাঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেন যে, তোমার প্রত্যাবর্তন করা পর্যন্ত এর পিঠে সওয়ার হতে পারবে। আবূ যুবাইর (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তোমাকে মদিনা পর্যন্ত এর পিঠে সওয়ার হতে দিলাম। আমাশ (রহঃ) সলিম (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এর উপর সওয়ার হয়ে তুমি পরিজনের কাছে পৌঁছবে। উবাইদুল্লাহ ও ইবন ইসহাক (রহঃ) ওয়াহাব (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেন, নাবী (সাঃ) -এর উকিয়ার বিনিময়ে সেটি খরীদ করেছিলেন। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণণা করতে গিয়ে যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) ওয়াহাব (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। ইবন জুরাইজ (রহঃ) আতা (রহঃ) প্রমুখ সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেন যে, (রাসূরুল্লাহ বললেন) আমি এটাকে বার দিনারের বিনিময়ে নিলাম। দশ দিরহামে এক দিনার হিসাবে তাতে এক উকিয়াই হয়। মুগীরা (রহঃ) শাবী (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে এবং ইবন মুনকাদির আবূ যুবাইর (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণণায় মূল্য উল্লেক করেননি। আমশ (রহঃ) সলিম (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনায় এক উকিয়া স্বর্ণ উল্লেখ করেছেন। সালিম (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে আবূ ইসহাকের বর্ণনায় রয়েছে দু’শ দিরহার বিনিময়ে। উবায়দুল্লাহ ইবন মিকসাম (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে দাউদ ইবন কায়স (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি সেটি তাবুকের পথে খরীদ করেন। রাবী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, চার উকিয়ার বিনিময়ে। আবূ নাজরা (রাঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনম তিনি সেটি বিশ দ্বীনারে করীদ করেছেন। তবে শাবী (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত, এক উকিয়াই অধিক বর্ণিত। আবূ আব্দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, (রিওয়ায়াতে বিবিন্ন রকমের হলেও) শর্ত আরোপ কৃত রিওয়ায়াতেই অধিক সূত্রে বর্ণিত এবং আমার মতে এটাই অধিক সহীহ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৩৫

অক্টো. 252013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ)আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারীরা (রাঃ) একবার তাঁর কাছে এসে তার চুক্তি পত্রের (অর্থ আদায়ের) ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করল, তখন পর্যন্ত সে চুক্তির অর্থ কিছুই আদায় করেনি। আয়িশা (রাঃ) তাকে বললেন, ‘তুমি তোমার মালিকের কাছে ফিরে যাও। তারা যদি ইহা পছন্দ করে যে, আমি তোমার পক্ষ থেকে তোমার চুক্তিপত্রের প্রাপ্য পরিশোধ করে দিব, আর তোমার ওয়অলা আমার জন্য থাকবে, তাহলে আমি তাই করব। ’ বারীরা (রাঃ) তার মালিককে সে কথা জানালে তারা অস্বীকার করল এবং বলল, তিনি যদি তোমাকে দিয়ে সাওয়াব হাসিল করতে চান তবে করুন, তোমার ওয়ালা কিন্তু আমাদেরই থাকবে। আয়িশা (রাঃ) রাসূল (সাঃ) -কে সে কথা জানালে তিনি তাঁকে বললেন, ‘তুমি তাকে খরীদ কর এবং আযাদ করে দাও। ওয়ালা সে-ই পাবে যে আযাদ করবে। ’

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৩৪